নাসা কিভাবে বর্তমানে থেকে ১৩ শ' কোটি বছর আগের মুহুর্তের মহাকাশের ছবি তুলল? (
অনেক বিভ্রান্তি এটা নিয়ে, কিভাবে অতীতে যাওয়া সম্ভব !! ) আসুন জানি..... আসলে আমরা
পৃথিবী থেকে অথবা পৃথিবীর অনেকটা উচ্চতায় উঠে মহাকাশের যা যা দেখতে পাই সবই অতীত।
সহজ ভাষায় বোঝাতে গেলে পৃথিবী থেকে আমরা দিনের বেলা যে সূর্যটা দেখতে পাই সেটাও
অতীত । সূর্য হতে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। তাহলে পৃথিবী
পৃষ্ঠ হতে দিনের বেলা সূর্যের আলো মাধ্যমে আমরা যে সূর্যের অবস্থান নির্বাচন করি
সেটা হলো সূর্যের ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগের অবস্থা। আমাদের প্রতিদিনের পরিচিত
সূর্যটাও আমরা সরাসরি দেখতে পাই না, যেটা দেখি সেটাই তার অতীত। তাহলে একবার ভাবুন
রাতের বেলা যে আমরা তারা গুলো দেখতে পাই পৃথিবী থেকে সেগুলো সূর্য থেকে আরো অনেক
অনেক দূরে অবস্থিত। সূর্য ছাড়া পৃথিবীর নিকটতম তারার নাম হলো প্রক্সিমা সেন্টরাই।
এইটা পৃথিবী হতে 4.23 আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটা থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় নেয়
প্রায় চার বছর। সুতরাং আমরা যখন ঐ তারাটির দেখতে পাই সেটি হলো ওই তার আর চার বছর
আগের অবস্থান। কেননা সেটা থেকে আলো আসার পরেই আমরা সেটাকে দেখতে পারি এবং ওই আলো
আসতে সময় নেয় চার বছর। ধরা যায় যে আমরা পৃথিবী থেকে মহাবিশ্বের যত কিছু দেখতে
পাই সবই হলো তার অতীত অবস্থা, সরাসরিভাবে আমরা কোন কিছু দেখতে পাই না। আমরা জানি যে
মহাকাশে মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ জুড়ে প্রায় লক্ষাধিক ছায়াপথ গ্রহ এবং নক্ষত্র
রয়েছে যাদের দূরত্ব প্রায় কোটি কোটি মাইল দূরে। এখন আমরা চিন্তা করি যে নাসা
কর্তৃক আবিষ্কৃত টেলিস্কোপ এর দ্বারা যে সকল নক্ষত্র ও ছায়াপথের চিত্র ধারণ করা
হয়েছে সেসকল নক্ষত্র ও ছায়াপথ এতই দূরে অবস্থিত যে টেলিস্কোপ পর্যন্ত তাদের আলো
আসতে সময় লেগেছে ১৩ শ' কোটি বছর। আলো বর্তমানে এসে পৌছালেও ওইসব দ্বারা ঐ সকল
ছায়াপথ নক্ষত্র অথবা গ্রহের ১৩ শ' কোটি বছর আগের অবস্থান প্রকাশ করে। এভাবেই
অতীতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া আরো গ্রহ-নক্ষত্র এবং ছায়াপথ রয়েছে যেগুলো
এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি, তারা এতটা দূরে অবস্থান করে যে এখন পর্যন্ত
কোন টেলিস্কোপে ধরা পরেনি। আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, মহান আল্লাহ তায়ালার কি
অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি। নাসা এ পর্যন্ত যতগুলো কক্ষপথ গ্রহ-নক্ষত্র ছায়াপথ
আবিষ্কার করেছে তা সমগ্র মহাকাশ বিশ্বকে এক হাতের তালুর সাথে তুলনা করলে সেই হাতের
সামান্য বালিকণার সমান মাত্র। সুবহানাল্লাহ । ( নিজের মতো করে লিখেছি, সকল ভুল
মার্জনীয় এবং অনুরোধ করে জানাবেন )
Comments
Post a Comment